× প্রচ্ছদ ঈশ্বরদী পাবনা জাতীয় রাজনীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষাজ্ঞন বিনোদন খেলাধূলা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্বাচন কলাম
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ঈশ্বরদী খেলা প্রযুক্তি বিনোদন শিক্ষা



১০ টাকা কেজি চালের কার্ডপ্রতি ৫০০ করে নেন মেম্বার!

ময়মনসিংহে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি চালের কার্ডের জন্য ৫০০-৬০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের (মেম্বার) বিরুদ্ধে। তার নাম আবু বকর সিদ্দিক। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। সরেজমিন ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের বেকারকান্দা গ্রামে গেলে এমন অভিযোগ করেন কার্ডধারী হতদরিদ্ররা। তাদের অভিযোগ, ৫০০ টাকা দিলেই ইউপি সদস্য আবু বকর সিদ্দিক কার্ডে সই করেন। টাকা না দিলে সই করেন না। বেকারকান্দা গ্রামের বছির উদ্দিনের ছেলে শহিদ মিয়া বলেন, ‘সিদ্দিক মেম্বারের কাছে কার্ড নিয়ে গেছি সই করানোর জন্য। তিনি সই না করে বলেন, আমাদের একটা মিটিং আছে। মিটিং করে পরে সই করবো। ওইদিন আমি চলে আসি। পরে আবার কার্ড নিয়ে গেলে তিনি বলেন, কার্ড নিলে ৫০০ টাকা লাগবো, কম হবে না। আমি গরিব-অসুস্থ মানুষ, টাকা কীভাবে দেবো। কিন্তু, সে আমার কোনো কথাই শুনলো না। ৫০০ টাকা দেওয়ার পরেই তিনি কার্ডে সই দিয়েছেন। পরে চেয়ারম্যানের কাছ থেকে সই নিয়ে ১০০ টাকা দিয়ে অনলাইনে কার্ড করতে বলেন।’ একই গ্রামের করনেস মিয়ার স্ত্রী রিপা বলেন, ‘সিদ্দিক মেম্বার কইছে ৫০০ টাকা দিলে নতুন কার্ড হবে। না হলে কার্ড বাতিল হয়ে যাবে। পরে ৫০০ টাকা মেম্বারকে দিলেই তিনি কার্ডে সই করেছেন। পরে আরও ১০০ টাকা দিয়ে অনলাইন করছি।’ মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে নুর নবী বলেন, ‘চালের কার্ড নতুন করে করতে গেলে মেম্বার টাকা ছাড়া সই করেন না। পরে আমি ৫০০ টাকা নিয়ে গেলে সই করেন। এ সময় আমি ৫০ টাকা ফেরত চাইলে তিনি দেননি। উল্টো বলেন, ৫০০ টাকার নিচে হবে না।’ ওই গ্রামের মৃত গুনজর আলীর ছেলে আবুল কাশেম বলেন, ‘চালের কার্ড করার জন্য সিদ্দিক মেম্বার আমার কাছে এক হাজার টাকা চাইছে। পরে অনেক বলে অনুরোধ করে ৫০০ টাকা দিলেই তিনি কার্ডে সই করেন।’ একই অভিযোগ করেন আব্দুল কুদ্দুস ছেলে ইছাক মিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রথমে কার্ড নিয়ে এক আত্মীয়ের কাছে গিয়েছি। তিনি ফোন করে আমার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে আমি মেম্বারের কাছে যাই। মেম্বারের কাছে গেলে আমার কাছে ৫০০ টাকা চান। টাকা না দিলে কার্ড হবে না বলে জানান। আমি বলছি, টাকা লাগবে কেন? মেম্বার বলেন, খরচ আছে তাই ৫০০ টাকা লাগবে।’ ওই ইউনিয়নের সাবেক আনসার কমান্ডার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমি ৪০ বছর এই ইউনিয়নের আনসার কমান্ডার ছিলাম। আমি ধার করে ৫০০ টাকা নিয়ে গেছি। সে আমার কাছ থেকে জোড় করে ৫০০ টাকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি ১০ টাকা কেজির চালের কার্ড নবায়ন করতে গেছি। মেম্বার আমার কাছে ৫০০ চাইছে। আমি তো জানি ৫০০ টাকা লাগে। পরে প্রতিবেশীর কাছে ৫০০ টাকা ঋণ করে তাকে দিয়েছি। তবেই তিনি কার্ডে সই করেন।’ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘নির্বাচনে যারা আমার বিরোধিতা করেছেন তারাই এসব মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে হয়রানির চেষ্টা করছেন। যারা কার্ডধারী তারা এমন কথা বলতে পারবেন না।’ তাহলে কার্ডধারীরা এমন অভিযোগ কেন করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাদের শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই তারা অভিযোগ করেছেন।’ এ বিষয়ে ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হজরত আলী বলেন, ‘কার্ড করার জন্য কোনো টাকা লাগে না। যদি নিয়ে থাকে তাহলে টাকা ফেরত দিতে বলবো। আপনি যদি গৌরীপুর আসেন আমার নম্বরে ফোন করে দেখা করবেন। একসঙ্গে ঠান্ডা খাবো।’ গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মারুফ বলেন, এখন কার্ডে মেম্বারের কোনো সই লাগে না। তাছাড়া, টাকা নেওয়ার কথা না। তারপরও যদি তিনি টাকা নিয়ে থাকেন তাহলে অভিযোগ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement (sandha)
A
dvertisement (pabna sweet)
Advertisement (school)

No comments